কৃষ্ণাঙ্গদের অর্থনৈতিক দুরবস্থা বাড়াচ্ছে ট্রাম্পের নীতি

২০২৪ সালের নির্বাচনে কৃষ্ণাঙ্গ ভোটারদের অর্থনৈতিক উন্নতির প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন ডোনাল্ড ট্রাম্প।

২০২৪ সালের নির্বাচনে কৃষ্ণাঙ্গ ভোটারদের অর্থনৈতিক উন্নতির প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। কিন্তু জানুয়ারিতে দ্বিতীয় মেয়াদে হোয়াইট হাউজে ফেরার পর তাদের পরিস্থিতি আরো খারাপ হয়েছে বলে জানিয়েছেন বিশ্লেষকরা। যুক্তরাষ্ট্রে কৃষ্ণাঙ্গদের কর্মসংস্থান ও আয় নিয়ে যে দুরবস্থা তৈরি হয়েছে, তা এখন ট্রাম্প প্রশাসনের জন্য বড় রাজনৈতিক ঝুঁকি হয়ে দাঁড়িয়েছে বলে অভিমত তাদের। খবর এপি।

নির্বাচনের আগে ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছিলেন, সীমান্তে অভিবাসন রোধ ও বিদেশী কারখানাকে শুল্কের মাধ্যমে চাপে রেখে কৃষ্ণাঙ্গদের চাকরি রক্ষা করবেন। কিন্তু সর্বশেষ অর্থনৈতিক তথ্য বলছে, মার্কিন নাগরিকদের মধ্যে বৈষম্য আগের তুলনায় বেড়েছে। কৃষ্ণাঙ্গ বেকারত্বের হার বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৭ দশমিক ৫ শতাংশে, যা ২০২১ সালের অক্টোবরের পর সর্বোচ্চ। চলতি বছরের শুরুতে এ হার ছিল ৬ দশমিক ২ শতাংশ।

রিয়েল এস্টেট ব্রোকারেজ প্রতিষ্ঠান রেডফিনের তথ্য অনুযায়ী, ২০২১ সালের পর সর্বনিম্ন পর্যায়ে এসেছে মার্কিন কৃষ্ণাঙ্গদের গৃহমালিকানা। এছাড়া মার্কিন সেনসাস ব্যুরো জানিয়েছে, কৃষ্ণাঙ্গ পরিবারগুলোর বার্ষিক গড় আয় গত বছর ৩ দশমিক ৩ শতাংশ কমে দাঁড়িয়েছে ৫৬ হাজার ২০ ডলারে। এটি শ্বেতাঙ্গ পরিবারগুলোর আয়ের তুলনায় প্রায় ৩৬ হাজার ডলার কম।

যুক্তরাষ্ট্রের ভোক্তা সুরক্ষা ব্যুরো (সিএফপিবি) ও শ্রম বিভাগের (ডিওএল) সাবেক কর্মকর্তা অ্যাঞ্জেলা হ্যাঙ্কস বলেন, ‘কৃষ্ণাঙ্গ মার্কিনরা অনেক সময় খনিশ্রমিকের খাঁচায় রাখা পাখির মতো সতর্কবার্তা দেয়। তাদের চাকরি হারানো মানে অন্য গোষ্ঠীর মধ্যেও শিগগির ছাঁটাই আসতে পারে। ডোনাল্ড ট্রাম্পের শুল্কনীতি ও ব্যয় কাটছাঁট এখন নাজুক অবস্থায় থাকা জনগোষ্ঠীর ক্ষতি করছে। এর প্রভাব শিগগিরই আরো বিস্তৃত হতে পারে।’

হোয়াইট হাউজের দাবি, কৃষ্ণাঙ্গদের সম্পদ কমার ধারা জো বাইডেনের সময় থেকেই শুরু হয়েছিল। ডেমোক্র্যাটদের ডিইআই নীতি (ডাইভারসিটি, ইকুইটি অ্যান্ড ইনক্লুশন) কৃষ্ণাঙ্গদের কোনো উপকারে আসেনি, বরং সম্পদের অংশ ২৫ শতাংশ কমিয়েছে। বাইডেনের মূল্যস্ফীতি সৃষ্টির নীতি সুদহার বাড়িয়েছে। এতে মানুষ গৃহঋণ নিতে পারেনি। অন্যদিকে উন্মুক্ত সীমান্ত লক্ষাধিক অবৈধ অভিবাসী প্রবেশে করেছে দেশে, যা মজুরি কমিয়েছে।

ফ্লোরিডার বাসিন্দা ৩০ বছর বয়সী বিক্রয় কর্মী জশ গ্যারেট বলেন, ‘আমি বুঝি না, কীভাবে মার্কিনদের হয়ে কাজ করার দাবি তোলে ট্রাম্প প্রশাসন। আবার তাদেরই চাকরি বাদ দেয়া হয়। আমাদের পরিবার আছে, বিল পরিশোধ করতে হয়। এসব তো বিবেচনায় নেয়া হবে।’

বিশ্লেষকদের মতে, ফেডারেল চাকরিতে ছাঁটাই কৃষ্ণাঙ্গদের বেশি ক্ষতিগ্রস্ত করেছে। কারণ সরকারি কর্মক্ষেত্রে তাদের উপস্থিতি তুলনামূলকভাবে বেশি। ট্রাম্প প্রশাসন মনে করছে, করছাড়, শুল্ক ও অবৈধ অভিবাসী বহিষ্কার শেষ পর্যন্ত কৃষ্ণাঙ্গদের উপকারে আসবে। তবে এখন পর্যন্ত এর কোনো ইতিবাচক প্রমাণ পাওয়া যায়নি।

এদিকে ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, শিকাগো, নিউ অরলিন্স, বাল্টিমোর ও মেমফিসে তিনি ন্যাশনাল গার্ড পাঠাতে চান। এসব শহরের নেতৃত্বে রয়েছেন কৃষ্ণাঙ্গ মেয়র। এছাড়া কংগ্রেশনাল জেলা নতুনভাবে ভাগ করে রিপাবলিকানদের সুবিধা দেয়ার প্রস্তাবও দিয়েছেন তিনি।

রাজনৈতিকভাবে কৃষ্ণাঙ্গরা ঐতিহ্যগতভাবে ডেমোক্র্যাটদের শক্ত ঘাঁটি। তবে ২০২৪ সালে ট্রাম্প কৃষ্ণাঙ্গ ভোট পেয়েছেন ১৬ শতাংশ, যা ২০২০ সালের দ্বিগুণ। ওই সময় মূল্যস্ফীতি ও জীবনযাত্রার ব্যয় নিয়েই অসন্তোষ বিরাজ করছিল নিম্ন আয়ের মার্কিনদের মধ্যে। সাম্প্রতিক জরিপে দেখা গেছে, কৃষ্ণাঙ্গ প্রাপ্তবয়স্কদের অর্ধেকের বেশি এখন আয়কে জীবনের বড় চাপ মনে করছেন।

বিশ্লেষকরা বলছেন, কৃষ্ণাঙ্গদের জন্য ট্রাম্পের অর্থনৈতিক প্রতিশ্রুতি বাস্তবে পরিণত না হলে তা শুধু তাদের জীবনমান নয়, বরং যুক্তরাষ্ট্রের সামগ্রিক অর্থনীতিতেও অস্থিরতা আনতে পারে।

আরও